হাওজা নিউজ এজেন্সি: চট্টগ্রামের সদরঘাট ইমামবাড়ায় ৫ম মহররমে আয়োজিত এক শোক মজলিসের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শূরার ২৩ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
قُلْ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى
—অর্থাৎ, ‘বলুন, আমি তোমাদের কাছে এর (রিসালাতের) বিনিময়ে কোনো প্রতিদান চাই না, তবে আমার নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা ব্যতীত।’ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আহলে বাইতের প্রতি মহব্বত শুধু আবেগের বিষয় নয়; বরং এটি মুসলিম উম্মাহর ওপর ওয়াজিব ও নৈতিক দায়িত্ব।
কারবালার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মাওলানা আমজাদ হোসেন বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) তাঁর আন্দোলনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে ঘোষণা করেছিলেন,
إِنِّي لَمْ أَخْرُجْ أَشِرًا وَلَا بَطِرًا وَلَا مُفْسِدًا وَلَا ظَالِمًا، وَإِنَّمَا خَرَجْتُ لِطَلَبِ الْإِصْلَاحِ فِي أُمَّةِ جَدِّي، أُرِيدُ أَنْ آمُرَ بِالْمَعْرُوفِ وَأَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ
আমি অহংকার, ক্ষমতার মোহ, ফাসাদ বা জুলুম করার জন্য বের হইনি; বরং আমি আমার নানা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর উম্মতের সংস্কার সাধনের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। আমি সৎকাজের আদেশ এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে চাই।
তিনি বলেন, কারবালার প্রান্তরে ইমাম হুসাইন (আ.) জুলুম, অন্যায় ও স্বৈরাচারের কাছে মাথানত না করে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সর্বোচ্চ ত্যাগের নজির স্থাপন করেছিলেন। তাঁর এই আত্মত্যাগ কিয়ামত পর্যন্ত মুক্তিকামী মানুষের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইয়াজিদ কেবল ইতিহাসের একটি চরিত্র নয়; বরং জুলুম, নিপীড়ন ও অবিচারের প্রতীক। যুগে যুগে ইয়াজিদি শক্তি বিভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়েছে এবং আজও সাম্রাজ্যবাদ, আধিপত্যবাদ ও নির্যাতনের মাধ্যমে সেই শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।
তিনি বলেন, বর্তমান যুগের ইয়াজিদ তথা সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী মর্যাদাপূর্ণ শাহাদাত বরণ করেছেন। তিনি বলেন, কারবালার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব।
তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, “ইমাম হুসাইন (আ.) আমাদের শিখিয়েছেন যে, সত্যের পক্ষে অবিচল থাকতে হলে প্রয়োজন হলে জীবনও উৎসর্গ করতে হয়। কারবালার শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

আপনার কমেন্ট